ভারতে সৌদি আরবের এক কূটনীতিকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ করেছেন দুই
নারী গৃহকর্মী। তারা বলেছেন, তাদেরকে শুধু ধর্ষণই করা হয় নি, নির্যাতনও করা
হয়েছে। ভারতের গুরগাঁওয়ে নিযুক্ত সৌদি আরবের এক কূটনীতিকের বাসায় এ ঘটনা
ঘটে। ওই বাসায় প্রবেশ করে পুলিশ কথিত নির্যাতিত দুই নারীকে উদ্ধার করেছে। এ
ঘটনায় ওই কূটনীতিকের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। তবে সৌদি আরব দূতাবাস এ
অভিযোগকে মিথ্যা বলে অভিহিত করেছে। নিয়মনীতি লঙ্ঘন করে কূটনীতিকের বাসায়
পুলিশ প্রবেশের প্রতিবাদ জানিয়েছে দূতাবাস। গতকাল এ খবর দিয়েছে ভারতের
অনলাইন এনডিটিভি। ভুক্তভোগী ওই দুই নারী নেপালের নাগরিক। তাদের একজন বলেন,
আমাদের সঙ্গে পশুর মতো আচরণ করা হয়েছে। সোমবার এ দুই নারীকে খুঁজতে ওই
কূটনীতিকের বাড়ির পঞ্চম তলার ফ্লাটে হাজির হন ৪০ পুলিশ সদস্য। পুলিশের কাছে
করা এক অভিযোগে ওই দুই নারী গণধর্ষণ, নির্যাতন ও দাসের মতো খাটানোর অভিযোগ
তুলেছেন। তবে অভিযোগে সৌদি ওই কূটনীতিকের নাম না থাকলেও, উল্লেখ রয়েছে
দায়ী ব্যক্তিরা ‘সৌদি আরবের লোক’। গুরগাঁওয়ের পুলিশ প্রধান নবদীপ সিং ভির্ক
বলেন, আমরা ওই সৌদি নাগরিকের পরিচয় খুঁজে বের করেছি। ওই ফ্লাটের মালিক
সৌদি আরবের এক কূটনীতিক। আমাদের কাছে ওই ফ্লাটের মালিকের বিরুদ্ধে যথেষ্ট
প্রমাণ রয়েছে। কিন্তু কূটনৈতিক দায়মুক্তির বিষয়টিও এ ক্ষেত্রে বিবেচ্য।
আমরা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বিষয়গুলো জানিয়েছি। তবে এ অভিযোগকে ‘অসত্য ও
অপ্রমাণিত’ বলে দাবি করেছে ভারতে অবস্থিত সৌদি আরবের দূতাবাস। একই সঙ্গে
‘সব কূটনৈতিক নিয়মাবলীর বিরুদ্ধে গিয়ে একজন কূটনীতিকের ঘরে পুলিশের অনধিকার
প্রবেশে’র প্রতিবাদ জানিয়েছে দূতাবাস কর্তৃপক্ষ।
প্রায় চার মাস ধরে
গৃহকর্মী হিসেবে সৌদি আরবের ওই পরিবারের সঙ্গে কাজ করছিলেন ভুক্তভোগী দুই
নারী। তারা অভিযোগ করেছেন, তাদের প্রতি নির্যাতন শুরু হয় জেদ্দায়, যা
গুরগাঁওতেও অব্যাহত থাকে। সৌদি ওই কূটনীতিকের ফ্লাটে যাওয়া ভিন্ন ভিন্ন
ব্যক্তিও তাদেরকে ধর্ষণ ও নির্যাতন করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন তারা।
এনডিটিভি’কে এক নারী বলেন, তারা আমাদের ধর্ষণ করেছে। তালা মেরে রেখেছে।
আমাদের কিছু খেতেও দিত না। ২ নারীর মধ্যে একজনের বয়স ৫০ বছর। নেপালের
মোরাং-এ তার মূল বাসস্থান। ২০ বছর বয়সী অপর নেপালি নারীর ২ শিশু সন্তান
রয়েছে। তার স্বামী ক্যানসারে আক্রান্ত। তারা উপায়ন্তর না দেখে এ চাকরি
নিলেও কখনই তাদের বেতন পরিশোধ করা হয় নি বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। তারা
জানান, এ বিষয়টি কাউকে বলতেও তারা ভয় পেতেন। কেননা, তাদেরকে মারা হয়েছে ও
হুমকি দেয়া হয়েছে। ছুরি দিয়েও ভয় দেখানো হয়েছে। এ দুই নারীর অবস্থা দেখে
নতুন নিয়োগ করা এক গৃহকর্মী সমপ্রতি পালিয়ে যান। পালানো ওই গৃহকর্মী এক
এনজিও’র সঙ্গে যোগাযোগ করে বিস্তারিত খুলে বলেন। ওই এনজিও কর্তৃপক্ষ
পুলিশের কাছে অভিযোগ করে।
কোন মন্তব্য নেই :
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন